| বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে তারেক রহমানের বিশাল জনসভা | বিভাগ ও হেলথ কেয়ারের প্রতিশ্রুতি ২০২৬

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 04-02-2026 ইং
  • 1298224 বার পঠিত
ফরিদপুরে তারেক রহমানের বিশাল জনসভা | বিভাগ ও হেলথ কেয়ারের প্রতিশ্রুতি ২০২৬
ছবির ক্যাপশন: ফরিদপুরে তারেক রহমান

ফরিদপুর বিভাগ ও দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের: ১২ ফেব্রুয়ারি ‘ব্যালট বিপ্লবের’ ডাক

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তাল দক্ষিণ-বঙ্গ। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে ফরিদপুরের ঐতিহাসিক সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর নির্বাচনি অঙ্গীকারের ঝুলি উন্মোচন করেন। দীর্ঘ দেড় দশক পর ফরিদপুরের মাটিতে বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতার এমন উপস্থিতিতে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ছাপিয়ে জনস্রোত শহরের অলিগলি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা ও ‘হেলথ কেয়ার’ পরিকল্পনা

তারেক রহমান তাঁর ভাষণে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা কষ্টের কথা উল্লেখ করে বলেন, “মানুষ প্রয়োজনে ডাক্তার ও ওষুধ পায় না। বিএনপি সরকার গঠন করলে হাসপাতালগুলো মেরামত করার পাশাপাশি গ্রামে গ্রামে ‘হেলথ কেয়ার’ কর্মী নিযুক্ত করা হবে।” এই বিশেষ স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিশেষ করে নারী ও শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা এবং ওষুধ পৌঁছে দেবেন, যাতে ছোটখাটো অসুখের জন্য কষ্ট করে দূরবর্তী হাসপাতালে আসতে না হয়।

ফরিদপুর বিভাগ ও নদী ভাঙন রোধের প্রতিশ্রুতি

ফরিদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ‘ফরিদপুর বিভাগ’ বাস্তবায়নের চূড়ান্ত আশ্বাস দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “জনগণের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এবং প্রশাসনিক সুবিধার্থে ফরিদপুরকে বিভাগ করা হবে।” এছাড়া এ অঞ্চলের অভিশাপ নদী ভাঙন রোধে পদ্মা ও সংশ্লিষ্ট নদীগুলোতে কার্যকর স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। কৃষকদের জন্য বিশেষ ‘কৃষক কার্ড’ এবং নারীদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে অর্থনৈতিক মুক্তির রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাঙালির রাজনৈতিক বিবর্তনের ধারায় ফরিদপুর সবসময়ই ছিল আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু।

  • ১৯০৫-১৯৪৭: ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও দেশভাগের সময় ফরিদপুরের মাটি বহু বিপ্লবীর জন্ম দিয়েছে।

  • ১৯৫২-১৯৭১: বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ—মুক্তিকামী মানুষের লড়াইয়ে ফরিদপুর ছিল অকুতোভয়। মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, “৭১-এ মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছেন, আর ২৪-এ ছাত্র-জনতা স্বৈরাচার হটিয়ে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করেছে।”

  • ২০২৪-২০২৬: ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে বিএনপি দেখছে ‘জবাবদিহিমূলক সরকার’ প্রতিষ্ঠার সুযোগ হিসেবে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটকে ‘ষড়যন্ত্র ঠেকানোর লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।

জামায়াতকে ইঙ্গিত করে কঠোর সমালোচনা

নাম উল্লেখ না করে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, “একটি ‘গুপ্ত দলের’ নেতা আমাদের মা-বোনদের নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। যারা দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে সম্মান দিতে জানে না, তাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়। ১৯৭১ সালেও তাদের ভূমিকা ছিল কলঙ্কজনক।” তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ইসলামের ইতিহাসে হযরত বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল নারী উদ্যোক্তা, তাই নারীর কর্মজীবনকে হেয় করার অধিকার কারো নেই।

উপসংহার

বক্তৃতার শেষে তারেক রহমান ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “১৩ তারিখ থেকেই ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশে সুশাসন ও গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।” জনসভায় ফরিদপুর অঞ্চলের ১৫ জন প্রার্থীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


সূত্র: যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন তথ্যভাণ্ডার, বাসস এবং ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মাঠ পর্যায়ের সংবাদ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency